দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

খ্যাতি, সাফল্য আর গ্ল্যামারের আড়ালে লুকিয়ে ছিল গভীর এক ব্যক্তিগত বেদনা। প্রাণঘাতী আশঙ্কার মুখে দাঁড়িয়ে যখন সমর্থন ও সাহসের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল, তখনই সবচেয়ে কাছের মানুষটিকে হারিয়েছিলেন হলিউড অভিনেত্রী। সম্প্রতি নিজের জীবনের সেই কঠিন অধ্যায়ের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, স্তনে টিউমার ধরা পড়ার পর অস্ত্রোপচারের আগে তাঁর সাবেক স্বামী তাঁকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন।
সম্প্রতি নিজের জীবনের অত্যন্ত কঠিন সময়ের কথা প্রকাশ করেছেন হলিউড তারকা শ্যারন স্টোন। ‘দ্য পারসন হু বিলিভড ইন মি’ পডকাস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শ্যারন স্টোন জানান, সেই ঘটনাই তাঁকে বুঝিয়ে দিয়েছিল যে তাঁদের দাম্পত্য সম্পর্ক কার্যত শেষ হয়ে গেছে।
একাধিক টিউমার ধরা পড়ে; ৬৮ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী বলেন, একসময় তাঁর স্তনে একাধিক টিউমার ধরা পড়ে। এর মধ্যে একটি টিউমারের আকার ছিল তাঁর পুরো বাঁ স্তনের চেয়েও বড়। শ্যারনের ভাষায়, ‘আমার চিকিৎসক বাড়িতে এসে বলেছিলেন, “আমরা মনে করি আপনার দুই স্তনই অপসারণ করা উচিত। পরিস্থিতি খুবই খারাপ। সাধারণত এমন অবস্থায় আমরা ধরে নিই ক্যানসারের আশঙ্কা খুব বেশি।”
তখনো তাঁর ক্যানসার নিশ্চিতভাবে ধরা পড়েনি। কিন্তু ঝুঁকি নিতে রাজি ছিলেন না অভিনেত্রী।
স্টোন বলেন, ‘আমি বলেছিলাম, ‘আমার তো ক্যানসার হয়নি।’ তখন চিকিৎসক বললেন, ‘সেটা আপনি ঠিক করতে পারবেন না।’ আমি উত্তর দিয়েছিলাম, ‘না। সিদ্ধান্ত আমি-ই নেব। আর আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি মাস্টেকটমি (একটি অস্ত্রোপচার পদ্ধতি, যার মাধ্যমে স্তন ক্যানসারের চিকিৎসা বা প্রতিরোধের জন্য স্তনের সম্পূর্ণ টিস্যু বা এর একটি অংশ অপসারণ করা হয়) করাব, কারণ আমি এ নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চাই না।’
শ্যারনের দাবি, এই সিদ্ধান্তের কথা শোনার পর তাঁর স্বামী ফিল ব্রনস্টিনের প্রতিক্রিয়া ছিল হতাশাজনক। অভিনেত্রীর কথায়, ‘আমার স্বামী বলেছিলেন, এটা একেবারেই হাস্যকর।
সেদিনই আমাদের বিয়ের সমাপ্তি ঘটে; স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে শ্যারন বলেন, ‘সেদিনই আমাদের বিয়ের সমাপ্তি ঘটে। ঠিক ওই ঘরেই সব শেষ হয়ে গিয়েছিল। তিনি আমার সঙ্গে আর থাকতে চাননি। সম্পর্ক তখনই শেষ হয়ে যায়।’ ১৯৯৮ সালে বিয়ে করেছিলেন শ্যারন স্টোন ও ফিল ব্রনস্টিন। প্রায় ছয় বছর সংসার করার পর ২০০৪ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। অভিনেত্রীর মতে, স্বাস্থ্য–সংকটের সেই সময় ও স্বামীর প্রতিক্রিয়াই তাঁদের সম্পর্কের গভীর সমস্যাগুলোকে স্পষ্ট করে দিয়েছিল।
নিজের শরীরের সিদ্ধান্ত নিজেই নিয়েছেন; সাক্ষাৎকারে শ্যারন জোর দিয়ে বলেন, নিজের শরীর ও চিকিৎসাসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার একমাত্র তাঁরই ছিল। তিনি মনে করেন, জীবনের এমন কঠিন মুহূর্তে একজন নারীর সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সমর্থন ও সহমর্মিতা। কিন্তু তিনি সেটি পাননি।
কেএম